বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ||
  • প্রচ্ছদ
  • এক্সক্লুসিভ >> দেশজুড়ে >> শিল্প ও বাণিজ্য
  • টোনাটুুনির সংসার চালাতেও হিমশিম অবস্থা!
  • টোনাটুুনির সংসার চালাতেও হিমশিম অবস্থা!

    সপ্তাহ ব্যবধানে আবারও অস্থির হয়ে ওঠেছে নিত্যপণ্যের বাজার। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে গিয়ে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে নাভিশ্বাস অবস্থা ক্রেতাদের। চাকরিজীবীদের মতে, বাজারের উর্ধ্বমুখী দামে তাদের মতো টোনাটুনির সংসার চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ, আগানগর, জিনজিরা ও রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহ ব্যবধানে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে সবজির দাম।বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে কমে গেছে সবজির সরবরাহ। শীতকাল হলেও মূলত হরতাল-অবরোধের কারণে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি আসতে পারছে না। এতে বাড়ছে দাম।কেরানীগঞ্জের আগানগর বাজারের সবজি বিক্রেতা উজ্জ্বল বলেন,শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। পাশপাশি দামও চড়া। তাই বেশি দামে সবজি কেনায়, বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।আরেক বিক্রেতা তপন বলেন, ভরা মৌসুমেও সবজির দাম বেশি এবার। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি আছে। তবে টানা হরতাল-অবরোধে পণ্য রাজধানীতে আসতে না পারায় দাম বাড়ছে।

     বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, শষা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ব্রকলি ৫০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা ও গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া প্রতি কেজি বেগুন জাতভেদে ৪০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁয়াজের কলি ৫০ টাকা, ক্ষিরাই ৩০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পুরান  ও নতুন আলু ৬০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কহি ৪০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৩০ টাকা ও পেঁয়াজের কালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ১০০ টাকা, আকারভেদে ফুলকপি ৪০ থেকে ৭০ টাকা ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বাজারে লালশাকের আঁটি ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা, পালংশাক ১০ টাকা ও লাউ শাক ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এদিকে, পাইকারি পর্যায়ে কমলেও খুচরা পর্যায়ে বেড়ে গেছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়; আর পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।ক্রেতারা জানান, প্রতি বছর শীতকালে হরেক রকম সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে। তবে এবার ঠিক উল্টো। প্রতি সপ্তাহেই বাড়ছে দাম। এতে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।চাকরিজীবী ইলিয়াস হোসেন বলেন,বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে। কোনো পণ্যের দামই ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে নেই। বাজারের ঊর্ধ্বমুখী দামে দুইজনের টোনাটুনির সংসার চালাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।আরেক ক্রেতা হাফসা বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে এসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সাধ্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি। যা সংসার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।চড়া মাছের বাজারও।।একদিকে যখন বাড়ছে সবজির দাম, অন্যদিকে ক্রেতার ঘাম ছুটাচ্ছে মাছের দামও। সপ্তাহ ব্যবধানে মাছের দাম কেজিতে সামান্য বাড়লেও তা সাধ্যের বাইরে বলছেন ক্রেতারা। আর বিক্রেতাদের দাবি, মাছের বেচাবিক্রি কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে ইলিশ ছাড়া অন্যান্য মাছের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়,  প্রতি কেজি বোয়াল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, আইড় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, বাইম ১ হাজার টাকা, দেশি কৈ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, শিং ১ হাজার ৪০০ টাকা, শোল ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা ও নদীর পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।এছাড়া আকারভেদে প্রতি কেজি রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ থেকে ৪৮০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫২০ টাকা, চাষের কৈ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, কোরাল ৭৫০ টাকা, টেংরা ৬৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা ও তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তবে দেখা নেই রুপালি ইলিশের। দুই-একজন বিক্রেতার কাছে মিললেও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। ১ কেজি ওজনের ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। সবুজ আলী নামে এক ক্রেতা বলেন,মাছের দাম অনেক চড়া। যা সাধ্যের তুলনায় অনেক বেশি। দাম কমাতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করতে হবে।আর কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী বাদশা ব্যাপারী বলেন, গরুর মাংসের দাম কমায় মাছের বেচাবিক্রি কমে গেছে। সবাই মাংসের দিকে ছুটছে। পাশাপাশি বাজারে মাছের সরবরাহ কমায় দাম সামান্য বেড়েছে।দাম বেড়েছে ডিম-মুরগির,বাজারে ঊর্ধ্বমুখী মুরগি ও ডিমের দাম। সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। আর প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়।বিক্রেতারদের দাবি, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ও পোলট্রি ফিডের দাম বাড়ায় মুরগির দামও বেড়েছে। আর কেরানীগঞ্জের আগানগর বাজারের মুরগি বিক্রেতা করিম মোল্লা বলেন,শীতে মুরগির বাচ্চা মরে যাচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে মুরগির খাবারেরও দাম। এতে পাইকারি বাজারে বেড়েছে মুরগির দাম। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।এদিকে, সপ্তাহ ব্যবধানে বাজারে আবারও বেড়েছে ডিমের দাম। ডজন প্রতি ৫ টাকা বেড়ে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এছাড়া প্রতি ডজন সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। আর প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ২১০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিম ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।স্থিতিশীল গরু-খাসির বাজার্‌,বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ টাকা থেকে এক হাজার ১০০ টাকায়।বিক্রেতারা বলছেন, নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। দাম কমায় বিক্রি বেড়েছে। তবে কম দামে বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।কারওয়ান বাজারের মাংস ব্যবসায়ী খোকন বলেন,বাজারে বেচাবিক্রি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ছুটির দিনে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। তবে দাম কমে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।ঊর্ধ্বমুখী আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজার,গত একমাস ধরে অস্থির পেঁয়াজের বাজারে নেই কোনো সুখবর। প্রতি কেজি পুরাতন দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ও ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। আর প্রতিকেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।বিক্রেতাদের দাবি, ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় দেশের বাজারে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। তবে পুরোদেমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করলে দাম কিছুটা কমবে।পেঁয়াজের পর ঝাঁজ বাড়ছে আদা-রসুনেরও। সপ্তাহ ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ২৮০ টাকায় ও আমদানি করা রসুন ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশি রসুন ২৬০ টাকা ও আমদানি করা রসুন বিক্রি হয়েছিল ২২০ টাকায়।আড়ত পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায়। আর আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়।শ্যামবাজারের মেসার্স সুরমা বাণিজ্যালয়ের ঝুটন সাহা জানান,চীনে বেড়ে গেছে রসুনের দাম। পাশাপাশি দেশেও কিছুটা ডলার সংকট চলছে। এতে আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।আর দেশি রসুনের মৌসুম ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি বছর মৌসুমের শেষে দাম বাড়ে রসুনের। মূলত সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামে প্রভাব পড়ে।সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ২২ ডিসেম্বরের হালনাগাদকৃত তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে প্রতিকেজিতে দেশি ও আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ১৭০.৫৯ শতাংশ ও ৭০.৮৩ শতাংশ। আর দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ১৯৩.৩৩ শতাংশ ও ২৭১.৪৩ শতাংশ।এদিকে, কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, আমদানিতে ঘাটতি না হলে আদার দাম শিগগিরই কমে আসবে।স্থিতিশীল রয়েছে চালের বাজার। প্রতিকেজি নতুন আটাইশ ৪৭ থেকে ৪৯ টাকা, পুরান আটাইশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬ থেকে ৮৪ টাকা ও মিনিকেট চাল ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।আর আমদানি শুল্ক অর্ধেক কমানোর পরও বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। প্রতি কেজি খোলা বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। আর বাজার থেকে উধাও প্যাকেটজাত চিনি। বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে চিনি পাওয়াই যাচ্ছে না। শুল্ক কমিয়ে লাভ নেই। পাইকারি পর্যায়ে দাম না কমলে খুচরা পর্যায়েও দাম কমবে না।নিত্যপণ্যের এ অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। ক্রেতারা বলছেন, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয় না। এতে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পায়।আর বিক্রেতারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছে মতো দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে নিয়মিত অভিযান চালালে অসাধুদের দৌরাত্ম্য কমবে।

    আরও পড়ুন

    error: Please Contact: 01822 976776 !!