রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ||
  • প্রচ্ছদ
  • আন্তর্জাতিক >> এক্সক্লুসিভ >> জাতীয় >> দেশজুড়ে
  • অভাগা বাঙালি লুফে নিচ্ছে গুজব প্রোপাগান্ডা
  • অভাগা বাঙালি লুফে নিচ্ছে গুজব প্রোপাগান্ডা

    জমির বেগ
    গোয়েবলেসকে হার মানিয়েছে বাংলাদেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ও সাইবার অপরাধীরা। তাদের প্রোপাগান্ডা গোয়েবলেসকেও হার মানিয়েছে। গোয়েবলেস বেঁচে থাকলে তাদের দেখে নিজেই লজ্জায় মুষড়ে পড়তেন। বাংলাদেশে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কয়েকটি প্রজন্মের মাথা ধৌলাই করে দিয়েছে এই দুষ্ট চক্রটি। এমনভাবে ধৌলাই করা হয়েছে যে, প্রজন্মগুলো আজ শতভাগ সত্যকেও মিথ্যে বলে জানে। সত্যকেতো নয়ই, সত্যের পক্ষে কোন যুক্তিই তার আমলে নিতে নারাজ। তাদের বাপ, চাচারা যা বলেছেন অথবা তারা অবুঝ থাকতে সুবিধাবাদী গুজব রটনাকারী বড় ভাইরা তাদের কানে কানে যা পড়িয়ে দিয়েছে তারা সেটাই সত্য বলে জানছে। আসল বা সত্য কোনটি সেটা জানতেও তারা চায়না। তাদের বাপ, চাচারাও যে তাদের মতো গুজবে বিশ্বাস করে তা আমলে নিয়েছে সেটাও তারা বিশ্বাস করতে নারাজ। তারা সত্যের মুখোমুখি হতে চায় না।
    লেখাটি লিখতে বসে প্রথমে লিখেছিলাম মিথ্যা প্রোপাগান্ডাকারীরা প্রজন্মের মাথা ধৌলাই করে দিয়েছে। পরে চিন্তা করলাম বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলালে এখানে হবে ‘মিথ্যা প্রেপাগান্ডা নয় শুধু প্রোপাগান্ডা’। বাস্তবতা হলো, প্রোপাগান্ডা শব্দটি উৎপত্তিগতভাবে একটি নিরপেক্ষ শব্দ ছিলো। যেকোন কাজের জন্য তথ্যের প্রচারকেই প্রোপাগান্ডা বলা হতো। বর্তমান বিশ্বজুড়েই এই শব্দটি নেতিবাচক অর্থ ধারণ করে। বর্তমানে মিথ্যার প্রচারণাকে প্রোপাগান্ডা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই আমিও প্রোপাগান্ডাই লিখলাম।
    এবার মূল কথায় আসি। বর্তমান প্রজন্মের আগের প্রজন্মসহ অনেকেই জানেনা আমাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, আমাদের সোনালী দিনের ইতিহাস, বাঙালি জাতির ইতিহাস। তাদের মধ্যে অনেকেরই নেই ধর্ম সম্পর্কে পুরোপুরি জ্ঞান। তারা ছোট থাকতেই ধোঁকাবাজ ও উগ্রবাদীদের খপ্পরে পড়ে এমন উগ্র হয়েছেন যে, কেউ একটি সত্য বললে সে সত্যটি যদি তাদের আদর্শের বিরুদ্ধে যায় তাদের খুন করতেও দ্বিধাবোধ করবেনা। তাদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে বা লিখলে তারা অসভ্য ভাষায় উত্তর দিতে একবারও ভাববেনা। কিন্তু কেন? কারণ তাদের সেভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের প্রজন্মটির কাছে সত্যের বার্তা জানান দেয়া, তাদের সত্যের পথে আনা, দেশ ও জাতির কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা তাদের শুধু উগ্র ও ধর্মান্ধ না বলে তাদের কাছে সত্যের বার্তা নিয়ে হাজির হতে হবে। একবারে সম্ভব না হলে বারবার চেষ্টা করতে হবে। কারন দিন শেষে তারা আমাদেরই সন্তান।
    দেশ স্বাধীনের পর থেকে একটি গোষ্ঠি দেশের তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অসংখ্য গুজব রটিয়েছে। এখনও তারা গুজব ও প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে গুজব ও মিথ্যা প্রপাগান্ড তারা কখনও এসব আমলে নেননি। তারা তাদের বিরুদ্ধে প্রচার করা প্রোপাগান্ডের উত্তর দেননি, যুক্তিও খন্ডাননি। তারা মনে করতো গুজবে কে কান দেয়। সেটিই হয়েছে তাদের জন্য ও অভাগা বাঙালির জন্য কাল।
    বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে আমরা বাঙালি জাতির অর্ধেকের বেশিই গুজবে বিশ্বাসী। চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে আমরা চিলের পেছনেই দৌঁড়ি। চাঁদে কোন ব্যক্তিকে দেখা গেছে সে গুজবেও আমরা হুমড়ে খেয়ে পড়ি। একবারও কানে হাত দিয়ে দেখিনা কান কি আসলে নিয়ে গেছে? না আছে?
    মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিৎ সে বা আমি মানুষ। ধর্ম মানুষের পরিচয় হওয়া উচিৎ নয়। ধর্মীয় উগ্রবাদী মুসলমানদের মধ্যে যেমন আছে হিন্দুদের মধ্যেও আছে। উগ্রবাদীর সংখ্যা বাড়লে হিন্দু মুসলমান কেউই নিরাপদ নয়। বাস্তবে জাত, বিশ্বাস, লিঙ্গ, বর্ণ সবকিছু বিবেচনা করলে মানুষ কিন্তু দুরকমের। এক দল উদারপন্থী, আরেকদল কট্টরপন্থী। এক দল নির্মাণ চায়, আরেক দল ধবংস। এক দল সামনে যেতে চায়, আরেক দল পেছনে যেতে চায়। এক দল ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, আরেক দল ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনা। এক দল সহিষ্ণু, আরেক দল অসহিষ্ণু। এক দল যুক্তি, প্রগতি, সভ্যতা মানে, আরেক দল অন্ধত্ব মানে, বর্বরতা মানে। আসলে হিন্দু মুসলমানে কোন ভেদাভেদ নেই। তারা একই জনগোষ্ঠী। মূলত ৪৭ এ দেশ ভাগ দিয়েই বিভাজন শুরু হয়েছে। সেই বিভাজন এখনও রয়ে গেছে। মানুষের বিরুদ্ধে মানুষের ধর্মীয় বিভাজনের কারনে এক শ্রেণির মধ্যে এক বেশি যে তারা একে অপরকে প্রচন্ড রকম ঘৃনা করে। ঘৃনা এতটাই প্রবল যে তারা একে অপরের প্রাণ নিতেও দ্বিধা করেনা।
    আমাদের দেশের একটি গোষ্ঠী মানে উগ্রবাদিগোষ্ঠী, যারা কট্টরপন্থী, অসহিষ্ণু, পেছনে ফিরে যেতে চায়, অন্যের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনা, অন্ধত্বে বিশ্বাসী তারা প্রগতিশীলদের সংখ্যালঘু বানানোর বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছে। যারা সমাজকে সুস্থ করতে চেষ্টা করছে, যারা উদার, সহিষ্ণু, যুক্তিবাদি, মানববাদি, মুক্তচিন্তক ও বিজ্ঞানমনস্ক তাদের সংখ্যালঘু বানানোর চেষ্টা চলছেই। তবে এই চেষ্টা শুধু আমাদের দেশেই যে তা কিন্তু নয়, এই চেষ্টা ভারত পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ সকল দেশেই চালানো হচ্ছে।
    আমাদের এদেশটাকে অন্ধকারাচ্ছন করার চেষ্টা সবসময় রয়েছে। একটি অজ্ঞ গোষ্ঠী ও একটি ধর্মান্ধগোষ্ঠী ও ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠী দেশটিকে পেছনে ফিরে নিতে চায়। তারাতো স্লোগানও দেয় টেক ব্যাক বাংলাদেশ। বাকস্বাধীনতাবিরোধী, গনতন্ত্রবিরোধী, নারীবিদ্বেষী দল, মূর্খ ধর্মান্ধের দলও দেশের ক্ষমতায় মসনদে বসতে চায়। যারা ইসলামের পুরোপুরি শিক্ষা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয় তারাও দেশ পরিচালনা করতে চায়।
    বর্তমানে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাইবার দুর্বৃত্তদের হয়রানি ভয়ঙ্ক রুপ নিয়েছে। নিয়ন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে সাইবার অপরাধ। দিন দিন এসব সাইবার অপরাধ বিভিন্নভাবে বেড়ে চলছে। নির্বাচন এলেই বিএনপি ও জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীল করতে পাঁয়তারা করে। তখন তারা দেশ বিরোধী ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে প্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে একটি চক্র লাগামহীনভাবে গুজব চালিয়ে যাচ্ছে। বিদেশে সক্রিয় রয়েছে সাইবার সন্ত্রাসীর ডনরা।
    আমরা এমন এক জাতি যেটা শুনে বিশ্বাস করেছি সেখান থেকে আর ফিরতে চাইনা। আমার এক বন্ধু দেখি সারাক্ষন এফবিতে বিভিন্ন কনটেন দেখে। সে সেগুলোই বিশ্বাস করে। বললাম এগুলোর ৯০% মিথ্যা। সে আমার কথা বিশ্বাস করতে নারাজ। তবে বলে অনেকগুলো সাজানো বলে মনে হয়। তার সাথে আমি ও অন্য বন্ধুরা মাঝে মধ্যে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলাপ করতে চাই। সে হাসবে, তবে শুনবেনা। আমলে নিবেনা। মাঝেমধ্যে আমাদের কথা বা যুক্তি সত্য বুঝার পরও বিশ্বাস করতে চাইবেনা। কেন বিশ্বাস করছেন না আমার কথা জিজ্ঞেস করলে কিছু বলবেনা। মোট কথা সে যেটা বিশ্বাস করে এসেছে সে বিশ্বাস থেকে বের হতে নারাজ।
    ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাগনের পর থেকেই আমাদের মধ্যে অনেকেই বিভাজন হয়ে পড়েছি। যাক বেশি পেছনে না যাই। ১৯৭৪ সালে কুড়িগ্রামের জেলে পাড়ার বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে বাসন্তীকে জাল পড়িয়ে লজ্জা নিবারণের ছবি প্রকাশিত হয়েছিলো দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়। ইত্তেফাকের নিজস্ব আলোক চিত্র আফতাব আহমেদ চিলেন সে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ছবির ফটোগ্রাফার। ছবিটতে বাসন্তী ও দুর্গাতি নামের দুই যুবতির মেয়েকে দেখানো হয়েছে। যাতে লেখা হয়েছিল অভাবের কারনে তারা সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারছিলেন না। ছবিতে বাসিন্তীর পরনে ছিল একটি মাছ ধরার জাল। এই একটি ছবিই তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর সরকারকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দিয়েছিল। দেশর আনাচে কানাচে দুর্ভিক্ষের আগমনী বার্তা পৌঁছে দেয়। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনমত তৈরীতে একটি ছবিই রেখেছিলো বিশাল ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বের হয়ে আসে এটি হলুদ সাংবাাদিকতার একটি অংশ। স্বাধীনতা বিরোধীচক্র ও বঙ্গবন্ধুর খুনিরাই বঙ্গবন্ধুর ইমেজ সংকট তৈরী করতে এই প্রোপাগান্ডা চালায়। ১৯৯৬ সালে ৫ অক্টোবর দৈনিক খবরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে লেখা হয় ‘চিলমারীর বন্দর থেকে কয়েকশ গজ দীরে বেশকিছু কুঁড়ে ঘর। এখানেই বাসন্তীদের আবাস। সে লেখা পড়ে জানা যায়, ৭৪ সালে যেদিন বাসন্তীর ছবি তোলা হয় সেদিন তার পরনে কাপড় ছিলো। কিন্তু ছেঁড়া জাল পরিয়ে তার ছবি তোলা হয়। বিস্তারিত ঘটনায় না গিয়ে সংক্ষিপ্ত ভাবে বলি। মূল কথা ৭৪ এর সেদিন ঘটনাস্থলে ছিলো ধীরেন বাবু ও রাজা মিয়াসহ অনেকেই। তারাই জানান. তখন ছিলো বর্ষাকাল। সেদিন তিনজন লোক বাসন্তীদের বাড়িতে আসে। একজন ছিলেন স্বানীয় রিঢিফ চেয়ারম্যান তার নাম আনছার। বাকীদের তারা চিনেন না। বাসন্তী ও দুর্গতিদের একটি কলাগাছের ভেলায় তুলে তাদের ছবি তোলা হয়। ছবি তোলার আগে তাদের মুখে কাঁচা পাটের ডগা দিয়ে বলে এগুলো খেতে থাকো। পরবর্তীতে বাসন্তীর চাচা বুদুরাম দাশ জানান সব কৃর্তীকান্ড। জানাযায়, জেলেরা মাচার উপর যে জাল শুকাতে দিয়েছিলেন সে জাল পড়িয়ে ছবি তুলে ইত্তেফাকে দুই দিন নিউজ করা হয়। এই ছবিগুলো দিয়ে পুরো বিশ্বে বাংলাদেশে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়। ৭৫ এর পূর্ববর্তী সময় একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানো হয় বঙ্গুবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল নাকি মেজর ডালিমের স্ত্রীকে নিয়ে চলে গেছেন, আরো প্রচার করা হয় শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। এসব প্রোপাগান্ডা শেখ মুজিবুর রহমানকে ভাবিয়ে তুলে। অনেকেই তাদের এ প্রোপাগান্ডা আমালে নেয়। বঙ্গন্ধুর মৃত্যুর পর অনেক বছর পর মেজর ডালিম তার লেখা বইতে সেদিনের প্রকৃত ঘটান তুলে ধরেন এবং বলেন এমন কোন ঘটনা সেদিন ঘটেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে শেখ কামালের গাড়িসহ একটি ছবি প্রচার করে ছবিটিতে লেখা হয় শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাতি করছেন। প্রকৃতপক্ষে সেদিন শেখ কামালের সাথে সর্বহারা পার্টির সিরাজুল সিকদারের মুখোমখি অংশ নেন। সিরাজুল সিকদার বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ঘোষনা করে দেশকে অস্থীতিশীল করে তুলেন। তার বিরুদ্ধে বর্ডি ওয়ারেন্ট ছিলো। সেখান থেকে শেখ কামালের ছবি তুলে ব্যাংক ডাকাতির করছে বলে তখন প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। এভাবে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অনেক প্রোপাগান্ডা চালায় তখনকার বিরোধী চক্র।
    যেমন ২০১৩ সালে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন বাঙালির জাতির প্রাণের দাবীতে পরিনত হয়েছিলো। এক পর্যায়ে জামায়াতসহ ধর্মান্ধরা প্রচারণা শুরু করেন ‘শাহবাগ আন্দোলন নাস্তিকের আন্দোলন’। তাদের প্রচারণায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। বাস্তবতা হলো শাহবাগ থেকে কেউ ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ডাকেননি। সেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খিস্টান সকলেই একত্রিত হয়েছিলেন বাঙালির দীর্ঘদের ক্ষোভ প্রকাশের জন্য। তাদের কথা ছিলো স্বাধীনতা যুদ্ধকে নিয়ে কোন আপোষ নয়। এখানে একটিই দাবী ছিলো স্বাধীনতার বিরোধী চক্র রাজাকারদের ফাঁসি চাই। তারা বাঙালির হৃদয়ের কথা বলেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এ চক্রটি সব মুক্তিযোদ্ধাকে হিন্দু ও কাফের বলে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। ১৯৭১ সালে জামায়াত ইসলাম আলবদর, আলশামস, রাজাকার বাহিনী গঠন করে সমস্ত বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। তাদের প্রধান অস্ত্রই ধর্ম। তারা বারবার ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এখনও করছে। ১৯৭১ সালে তারা আমাদের বলেছে হিন্দু ও কাফের বর্তমানে বলছে নাস্তিক ও কাফের।
    একটি গোষ্টি আছে তারা দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, বিবিসি বাংলার হুবহু নকল করে প্রপাগান্ডা ছড়াতেন। ২০১৮ সালে ২৯ নভেম্বর জিএম কামাল হোসেন ও আল আমিন নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। কামালকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে ও আমিনকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরাই জানান, তাদের এসব কনটেনও নিউজ জামায়ত বিএনপিসহ আওয়ামী লীগ বিরোধীরা বিপুল পরিমান লাইক ও শেয়ার করে। এতে তারা ফেসবুক থেকে প্রচুর পরিমান আয় করে। র‌্যাব-২ এর তৎকালীন সিও মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, এসব ফেক আইডির কারনে দেশ বিদেশে বাংলাদেশ সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। এই চক্রটিই ২০১৯ সালের আগষ্ট মাসে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিভিন্ন ধরনের কনটেন তৈরী করে তাদের উস্কানি দিয়েছিলেন। কনটেন গুলোতে দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে হত্যা করছে, কাউকে ধরে নিয়ে চোখ তুলে নিচ্ছে, এক নারী চিৎকার করছে তাকে বেইজ্জত করা হচ্ছে এমন বিভিন্ন কিছু। গুজবকারী চক্রগুলো বিভিন্ন পত্রিকার চেহরা হুবহু ঠিক রেখে ও ওয়েবসাইড হুবহু ঠিক রেখে পত্রিকাগুলোর খবরের চুম্বক অংশ ঠিক রেখে কিছু কিছু ভুয়া তথ্য যুক্ত করে প্রচার করেন। প্রতিটি পোষ্টের নির্দিষ্ট ভিউ, লাইক, শেয়ার হলে তারা নির্দিষ্ট টাকা পেতেন। একই বছর দক্ষিন কোরিয়া প্রবাসী পিএইচডি গবেষক এনামুল হককেও ঢাকা বিমানবন্দর থেকে র‌্যাব গ্রেফতার করে। এনামুল দক্ষিন করিয়ায় বসে দেশের ২২টি নকল ওয়েব সাইয পরিচালনা করতেন। বেশির ভাগ সময় সে হুবহু কপি করে নিউজ দিতো ও মাঝে মধ্যে নাশকতার অংশ হিসেবে নিজের ইচ্ছেমতো সরকার বিরোধী লেখা ওয়েব সাইটে প্রচার করতো।
    ২০২৩ সালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে এখনও দেশে পোপাগান্ডা চলানো অব্যাহত রয়েছে। জনগনকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মিথ্যা, আংশিক সত্য অর্ধ সত্যকে বিশ্বাসযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মানুষ অনেক সময় প্রথমে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বিশ্বাস না করলেও পরবর্তীতে যখন দেখে অনেকগুলো সাইটে সেটি প্রচার করা হচ্ছে তখন তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়। একটি কথা মিথ্যাকে বারবার প্রচার করা হলে একসময় তা সত্যে রুপান্তর হয়। বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতুকে নিয়েও প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছিলো। পদ্মাসেতুতে ব্যর্থ হয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সেক্টরকে মানুষকে বিভ্রান্ত করা চেষ্টা হয়েছে। কয়েকমাস আগে শ্রীলংকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থা কারনে বাংলাদেশের একটি অপপ্রচারকারী গোষ্ঠী জনগনকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালায়। তারা প্রচারণা শুরু করে দেয় বাংলাদেশের অবস্থাও শ্রীলংকার মতো হবে।
    প্রোপাগান্ডা চলানো দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কয়েকনি আগেও তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ একটা প্রোপাগান্ডা দলে পরিনত হয়েছে। যা রীতিমত হাস্যকর ব্যাপার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রোপাগান্ডাকে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার একটি শক্ত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল তার প্রতিক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে থাকেন। বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে জনগনকে ভিব্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তাদের প্রতি জনগনের আস্থার সংকট থাকার কারনেই তারা তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালান। আওয়ামী লীগ প্রোপাগান্ডার জবাব প্রায় সময় না দেয়ায় কখন কখন সেটি সত্যিতে রুপান্তর হয়। আওয়ামী লীগ সবসময় শত্রুকে দুর্বল ভাবে। তাদের এই ভাবা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তাদের প্রোপাগানডার জবাব দিতে হবে। মিথ্যাচারকে মোকাবেলা করে জাতির সামনে সত্যকে উপস্থাপন করতে হবে যাতে জাতি বিভ্রান্ত না হয়।
    যেমন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুর্নীতির মামলার রায়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সাজা হওয়ার পর বিএনপি বলে বলে বেড়াচ্ছেন এটা মিথ্যা মামলা। বিএনপির বুদ্ধিজীবীরা সরাসরি এটা বলতে না পারলেও তারা আকারে ইকারে বলেছেন দেশে আরো কত মামলা আছে, আরো অনেক দুর্নীতির মামলা রয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ নেতারা জড়িত সেগুলোর বিচার হচ্ছে না কেন? বিএনপির এটাও একটা প্রোপাগান্ডা তারা সত্যকে বলছে মিথ্যা।
    গত ২৮ অক্টোবর তারা কি করলো মার্কিন নাগরিক মিয়া আরেফিনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরে ভুয়া উপদেষ্টা বানিয়ে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছেন। পরবর্তীতে ব্যাপারটি তারা নিজেরাই ধরা খেয়ে গেলেন। মার্কিন দূতাবাস তার ব্যাপারে সত্য ঘটনা জানিয়ে দেয়ার পর তাকে পরের দিন বিমান বন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চান। এখানে কথা হলো ব্যাপারটি যদি ধরা না খেত তাহলে তাকে বাইডনেরে উপদেষ্টা বলে চালিয়ে দিয়ে জাতির উপর গজব নাজিল করতো তারা। ধরা খাওয়ার পর আরেফি বলেন, তাকে আমেরিকা থেকে শিখিয়ে দেশে আনা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বেতনভুক্ত সাংবাদিক মুশফিকুর ফজল আনসারীর বন্ধু সে। যুক্তরাষ্ট্র থাকা জামায়াত ইসলামের লোকজনের কাছে আরেপিকে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় করে দেয় আনসারী। বাংলাদেশে আসাসহ তার যাবতঅয় খর জামায়াত ইসলাম বহন করেছে। পুরো ঘটনাটি তারেক রহমানের জান্তেই হয়েছে। বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব খায়রুণ কবির খোকন ও ইশরাক হোসেনকে বার্তা দেন তারা। ওই চক্রটি ২৮ অক্টোবর বাসে আগুন লাগিয়ে পুলিশের ঘাড়ে তুলে দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। নিজেরা আগুন সন্ত্রাস করে সরকারের কাঁধে তুলে দেয়ারও অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
    সর্বশেষ বলবো, আজ যদি হিটলারের প্রোপাগান্ডা মিনিষ্টার গোয়েবলেস বেঁচে থাকতেন তাহলে বাংলাদেশের এই গোষ্ঠটিকে দেখে ও কিছু বুদ্ধিজীবীর কথা বার্তা শুনে তিনি নিজেই লজ্জায় মুষড়ে পড়তেন। আমাদের দেশের এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী যেভাবে সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো না বলার অদ্ভুত দক্ষতা দেখাচ্ছেন তা দেখলে গোয়েবলেস নিশ্চয় স্বীকার করতেন তিনি এদের তুলনায় কিছুই ছিলেন না।

    আরও পড়ুন

    error: Please Contact: 01822 976776 !!