শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ||
  • প্রচ্ছদ
  • ছাগলনাইয়া >> দাগনভূঞা >> পরশুরাম >> ফুলগাজী >> ফেনী >> ফেনী সদর >> সোনাগাজী
  • ফেনীতে কিশোর গ্যাং ও তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে পুলিশ
  • ফেনীতে কিশোর গ্যাং ও তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে পুলিশ

    বেশকিছু দিন ধরে ফেনীতে এলাকাভিত্তিক অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়া কিশোর গ্যাং- এর লাগাম টানতে এবার হার্ডলাইনে যাচ্ছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। জেলা পুলিশ সুপার নুরুন্নবীর নির্দেশে জেলার ৬ টি থানা এলাকায় সক্রিয় কিশোর অপরাধী চক্রের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। তলিকা ধরেই অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া কিশোর অপরাধীদের মদতদানকারী আড়ালের প্রশ্রয়দাতা ‘বড় ভাইদের’ বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলাপকালে কিশোর অপরাধ নিয়ে হুশিয়ারী দিয়ে পুলিশ সুপার নুরুন্নবী বলেন,গত শুক্রবার পাঠানবাড়ী এলাকায় কিশোরদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারপিট হয়।ঘটনায় তাৎক্ষণিক ৩ জনকে আটক করে শনিবার আদাৈতে প্রেরণ করা হয়।তিনি বলেন অপরাধ করলে কারও ছাড় নেই।তবে একজন কিশোর যদি অপরাধ করে সে জেল, মামলা নিয়ে সারা জীবন ঐ ঘানী টানতে হয়।তাই সময় থাকতে সতর্ক হওয়া খুবই প্রয়োজন।তিনি জানান, হাল সময়ে পাড়া-মহল্লায় দৃশ্যমান হওয়া পশ্চিমা ধাচের ‘কিশোর গ্যাং কালচার’ ভবিষ্যত প্রজন্ম ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন। একইসাথে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে শহরের কোথাও কিশোর গ্যাং- নামে কোনও উৎপাত মোটেও সহ্য করা হবে না জানিয়ে এ ধরনের কালচারের নামে যারা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হবে তাদের পাশাপাশি আড়ালে থেকে ছত্রছায়া প্রদানকারী বড় ভাইদেরও কোনও ছাড় না দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ফেনী সদর, ছাগলনাইয়া,ফুলগাজী, পরশুরাম, সোনাগাজী,দাগনভূঞা থানা এলাকার স্ব স্ব অবস্থান থেকে এলাকার কিশোর গ্যাং- এর তালিকা হালানাগাদ করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। কিশোর অপরাধীচক্রের কারা কোন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে, কোন চক্রের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, কাদের বিরুদ্ধে কী মামলা রয়েছে বা নেই- বিস্তারিত সব তথ্য হালনাগাদ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। ওই তালিকা ধরেই প্রতিটি চক্র ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।প্রতিদিন বিভিন্ন স্পটে সাদা নারীসহ পুলিশের টিম ছদ্ম বেশে মাঠে থাকবে। প্রয়োজনে কেউ কোন অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে জেলা পুলিশ ফোন অথবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করার অনুরোধ করেন তিনি।

    তবে কিশোর অপরাধ নির্মূলে পুলিশি পদক্ষেপের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন দরকার উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার নুরুন্নবী। তিনি বলেন, কিশোর অপরাধীদের পেছনে কোনও রাজনৈতিক প্রভাবশালীর সহযোগিতা থাকলে তা অবশ্যই বন্ধ অথবা প্রত্যাহার করতে হবে। যেসব ‘বড় ভাই’ কিশোরদের ইন্ধন দিয়ে বিপথগামী করে তাদেরকেই গ্রেপ্তার করতে হবে।

    এস এ টিভির ফেনী জেলা সংবাদদাতা ও প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল রাসেল জানান, প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সমাজের বিত্তশালী ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণরা নিজেদের গ্রূপ গঠন করছে। এরপর তুচ্ছ বিষয়েও এক গ্রূপ অন্য গ্রূপের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে হত্যাসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করছে। পশ্চিমা বিশ্বে ‘গ্যাং কালচার’ নামে পরিচিত এই বিজাতীয় সংস্কৃতির ভয়ঙ্কর আগ্রাসনে নিজেদেরকে ক্রমেই অভ্যস্ত করে তুলছে উঠতি বয়সীরা। পরিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে এই বিষয়ে সচেতন না হলে গ্যাং কালচারের এই প্রবণতা উগ্রবাদী কর্মকান্ডে জড়ানোর মত ভয়ঙ্কর রূপ লাভ করতে পারে। প্রযুক্তির প্রসারতার যুগে এসে কিশোর-তরুণদের অনেকেই ফেসবুকসহ নানা যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের গ্রূপ গঠন করে অস্তিত্ব ও কর্মকান্ডের জানান দিচ্ছে। কেউ তাদেরকে প্রশ্রয় বা মদদ দিয়ে বিপথগামী করে তুলছে, আবার স্বার্থগত দ্বন্দ্বের জেরে তাদের কোনও কোনও গ্রূপ সহিংস-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কারও দিকে না তাকিয়ে আত্মকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার তিক্ত ও ভয়ঙ্কর ফলই এখন সমাজ ও রাষ্ট্র পেতে শুরু করেছে।

    জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক এ এন এম নুরুজ্জামান বলেন, ‘সময়ের ব্যবধানের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাং কালচার তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় বঞ্চনা থেকেও কিশোরদের মধ্যে এমন দল গড়ে ওঠে। আবার কোথাও কোথাও বীরত্ব বা হিরোইজমের বশবর্তী হয়ে ছেলেরা মাস্তানিতে যুক্ত হয়। এটা সমাজে সবসময়ই অল্প-বিস্তর ছিল। তবে বর্তমানে সেটার ভয়ঙ্কর সহিংস রূপ নিচ্ছে তাদের লাগাম টেনে ধরা হবে। খেলার মাঠে কিংবা তুচ্ছ ঘটনায় কিশোরদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিন্তু সেটা যাতে সহিংসতার দিকে না যায়, সে ব্যাপারে অভিবাবকসহ এলাকার মুরব্বিদের দায়িত্ব নিতে হবে। কিশোর-তরুণদের গঠনমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।

    আরও পড়ুন

    error: Please Contact: 01822 976776 !!