বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ ||
  • প্রচ্ছদ
  • ফেনী >> সোনাগাজী
  • শুধু আশ্বাসে হারিয়ে গেছে অনেক কিছু: অবশেষে চেয়ারম্যান নামলেন নদীর বাধঁ রক্ষায়
  • শুধু আশ্বাসে হারিয়ে গেছে অনেক কিছু: অবশেষে চেয়ারম্যান নামলেন নদীর বাধঁ রক্ষায়

    প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে ফেনীর সমুদ্র উপকুলীয় সোনাগাজীর ছোট ফেনী নদীর ৮ টি স্থানে ভাঙনের কবলে এলাকার প্রাচীন অনেক রাস্তা ফসলি জমি, মসজিদ, কবরস্থান ও মন্দির, পার্শ্ববর্তী জনবসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত ৫ বছর ধরে নদীর অংশগুলো ভাঙতে ভাঙতে অনেক কিছু গ্রাস করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড নেয়নি কোনো পদক্ষেপ।তবে বিষয়টি জানতে পেরে নদীর বাঁধ রক্ষা কাজে নিজেই নেমে পড়েন উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন। সরকারী বরাদ্ধের কথা চিন্তা না করে বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রবল স্রোতে ভেঙ্গে যাওয়া সোনাগাজীর চর মজলিশপুর ইউনিয়নের বিঞ্চুপুর এলাকায় রবিবার সকালে বাঁধ রক্ষা কাজে নিজেই নেমে পড়েন।এসময় উপস্থিত ছিলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ,ইউনিয়ন,আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা।

    চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন জানান,পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্য সবকটি স্থানে শুধু গ্রামকে রক্ষা করতে অস্থায়ী ভাবে বাশঁ দিয়ে বাধঁ দেয়া হবে।তবে বরাদ্ধ’র জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে।সেখানে ১শ ১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে সেটির কাজ শুরু হলে হয়তো সমস্যাগুলো থাকবেনা।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিবছর বর্ষা এলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এসে ছবি তুলে নিয়ে যান, বাঁধের আশ্বাস দেন কিন্তু তা আজও বাস্তবে দেখা মিলেনি। এবারের ভাঙন বেশ চিন্তায় ফেলেছে গ্রামবাসীকে।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চর মজলিস পুর ইউনিয়নের রাস্তাটি প্রায় নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। গ্রামের প্রায় আধা কিলোমিটারের মতো জায়গা জুড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের গাছপালাও নদীগর্ভে চলে গেছে। পায়ে চলার মতো যেখানে পথটুকু রয়েছে সেখানেও বড় বড় ফাটল দেখা গিয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙনের পরিধি বাড়ছে। ভাঙনের মাঝে এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে গ্রামের মসজিদ, কবরস্থান,কালী মন্দির, ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি। গ্রামের অনেক মানুষ তাদের চোখের সামনে নিজস্ব জমি বসতঘর বিলীন হতে দেখেও কিছুতেই রক্ষা করতে পারছেনা তাদের সম্বল।

    স্থানীয়দের জানান, প্রতি বছরই তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে বাঁধের আকুতি জানান। কিন্তু তারা প্রতিবছরই আশ্বাস দিলেও আজও তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। সময় মতো বাঁধ নির্মাণ করা গেলে অনেক কিছু অক্ষত রাখা রাখা যেত বলেও জানান তারা। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। এখন ভাঙনের চিন্তায় তাদের রাত কাটছে নিদ্রাহীন।

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান,ইতিমধ্যে ভাঙ্গন অংশ গুলো পরিদর্শন করা হয়েছে।এ ব্যপারে মন্ত্রনালয়ে বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে।আর সেটি পেলেই দ্রুত স্থায়ী বাধঁ নির্মান করা হবে।

    আরও পড়ুন

    error: Please Contact: 01822 976776 !!