মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় দায়ের করা মামলায় পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তিনি সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে আসামীপক্ষের কৌঁসুলিরা তাকে জেরা করেন।
আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে সরকারী কৌসূলী হাফেজ আহাম্মদ বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারক, পুলিশ ও চিকিৎসকসহ ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত বাদীসহ ৮০জনের সাক্ষগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা চলাকালে আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামী উপস্থিত ছিলেন। ৮ আগষ্ট বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ, ডা. প্রদীপ বিশ^াস, ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, ডা. মো. ওবায়দুল ইসলাম, ডা. এ কে এম মনিরুজ্জামান ও জেষ্ঠ্য সেবিকা অর্চনা পাল।
চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।
এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ জনের সর্বেচ্চ শাস্তি দাবী করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ মামলায় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
সম্পাদনা: আরএইচ/এনজেটি